প্রধান সম্পাদকের কথা
ঋতুর রূপে, ঋতুর রঙে
কাল বিমান নিরবধি আলারপর তার গেল যেমন নিরবধি, ঋতুর পর ঋতুর
এখন পলাশে পথ রাঙা হয়ে আছে, শিমুলে আকাশ রাঙা হয়ে আছে, কৃষ্ণচূড়ায় রাধাচূড়ায় প্রকৃতি হয়ে আছে আদিগন্ত পেইনটিং, এক রঙিন মহাচিত্র। এখন কি আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলে? চলুন দেখে আসি বাংলার এই আবহমান ঋতুপরিবর্তনের বর্ণমহোৎসব।
আকাশে এখন শিমুলে-পলাশে প্রকৃতির হোলিখেলা। এখনই চোখ ভরে বাংলার রূপ, বাংলার রং দেখে বেড়াবার দিন। সপ্তাহশেষে একা কিংবা সপরিবার বেরিয়ে পড়ার মাস। কাছেই কোনও নদীর ধারে, দিঘির পাড়ে, গ্রামের পথে এক-আধবেলা ঘুরে এলেও মন তার তৃষ্ণার জল পায়, বুক তার নির্মল হাওয়া পায়।
শরতে মন যদি সুদূরের পিয়াসী, বসন্তে শুনি বাংলার বাঁশি। প্রতি বছর এই সময়টা বিষয়াবিষ্ট মানুষের মনও উডু-উডু হয়। এই ফাল্গুন-চৈত্রের মাতাল সমীরণে, শিমুল-পলাশের আগুন লাগা আকাশ যেন ঘোর লাগায় মনে।
শিমুল-পলাশ, জারুল-পারুল, রাধাচূড়া-কৃষ্ণচূড়া যেমন ভগবানের হোলি খেলা, তেমনই গ্রীষ্মের জুঁই বেলফুল টগরের সূচনাও এই সময়েই।
বসন্ত তাই একদিকে মন রাঙাবার ঋতু, আরেক দিকে মন সাদা করারও সময়। গোটা বাংলা এই সময় বড় আপন মনে হয়, মনে হয় বড় মনোরম।
এই রক্তাক্ত রাক্ষুসে অভিশপ্ত যুগেও আমাদের দেশে এমন গ্রাম অনেক আছে, যেখানে অতিথি এলে গৃহস্থ শরীর জুড়োতে তালপাতার পাখা এগিয়ে দেয়, তৃষ্ণা মেটাতে গাছের ডাব কেটে দেয়, দু'য়েক ঘণ্টার আলাপেই হয়ে ওঠে আজন্ম আত্মীয়। একেকটা নদীর তীর, বটের ছায়া, দিঘির কোল, ঘরের উঠোন দেখে মনে হয় কেউ যেন অতিথির জন্য চিত্রিত পিঁড়ি পেতে রেখেছে।
স্বদেশ-বিদেশের এইসব পথের কথা, রথের কথা, রূপের কথা, রঙের কথা থাকছে এবারের বিশেষ গ্রীষ্মসংখ্যায়। মানুষের ঘুরে বেড়াবার নেশা খুব বড় সম্পদ। ভ্রমণ জীবনের গভীরতম অধ্যয়ন। প্রত্যেকের জন্য আরও গভীর, আরও সুদূর, আরও আনন্দময় দেশভ্রমণ কামনা করি। প্রার্থনা করি, এই আশ্চর্য পৃথিবী দেখে বেড়ানোর স্বপ্ন যেন সকলের অটুট থাকে।
ভ্রমণ বিশেষ গ্রীষ্ম সংখ্যা মার্চ ২০২৬
সূচিপত্র
বেড়াতে যাবার কোনও তথ্য বা পরামর্শ চেয়ে অনুগ্রহ করে প্রধান সম্পাদকের ঠিকানায় ই-মেল করবেন না। 'ভ্রমণ' এর জন্য কোনও লেখা বা ছবি (বা সে-বিষয়ে প্রশ্নও) পাঠাবেন ন্য। এসব ক্ষেত্রে ফোন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপও সম্পূর্ণ কাজলীয়। ভ্রমণ' প্রাসঙ্গিক যে-কোনও যোগাযোগ কেবলমাত 'ভ্রমণ' পত্রিকায় মুচিত দেশ আইডি বা টেলিফোন নম্বরেই করতে হবে। পাঠকের সহযোগিতা কাম্য।